ঢাকা ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ইরান সংশ্লিষ্ট সাড়ে ৩৪ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করল আমেরিকা সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত গ্যাসচালিত পরিবহনে বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা: সড়কমন্ত্রী কমলাপুর স্টেশনে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে প্রাণ গেল নারীর গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ১২ ফিলিস্তিনি নিহত সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার আভাস, পাউবো’র সতর্কতা জারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের সমাবেশ আজ কোহলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বেঙ্গালুরুর দাপুটে জয় সৌদি পৌঁছেছেন ৩২৫৩২ জন হজযাত্রী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পদ্মা সেতু চালুর পর লঞ্চযাত্রী কমেছে ৩৪ শতাংশ, বিক্রি হচ্ছে লঞ্চ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ আগস্ট, ২০২৩,  9:35 PM

news image

পদ্মা সেতু চালুর আগে প্রতিদিন ঢাকা থেকে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ লঞ্চে বরিশালসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় যেত। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা ১৭ হাজার কমে ৩৩ হাজার হয়েছে। এই হিসেবে ঢাকার লঞ্চযাত্রী কমেছে ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া আগে ঢাকা থেকে প্রতিদিন অন্তত ৮০টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত। এই সংখ্যা ২০ কমে এখন হয়েছে ৬০। অর্থাৎ এক বছরে লঞ্চ চলাচল কমেছে ২৫ শতাংশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) শিপিং এ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। জরিপকালে নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞসহ নৌযান মালিক ও শ্রমিক নেতা, লঞ্চ কর্মচারি, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে। এসসিআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবসায় মন্দার কারণে মালিকেরা এক বছরে অন্তত ২০টি লঞ্চ স্ক্র্যাপ (ভেঙ্গে যন্ত্রাংশসহ লোহালক্কড় বিক্রি) করে ফেলেছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ছয়টি লঞ্চ স্ক্র্যাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকার সঙ্গে উপকূলীয় জনপদসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আধুনিক ও আরামদায়ক হয়েছে। মানুষ সড়কপথে স্বল্পসময়ে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করতে পারছে। এ কারণে ঢাকা ও বৃহত্তর বরিশালের মধ্যে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং লঞ্চের যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। তবে প্রতিবেদনে যাত্রী ও লঞ্চ চলাচল কমে যাওয়ার পেছনে সড়কপথে পদ্মা সেতুর ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি নাব্যসংকট ও ঢাকার যানজটকেও দায়ি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, যথাযথভাবে নদী খনন ও পলি অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কারণে অনেক নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া যানজট বিড়ম্বনায় সদরঘাট টার্মিনালে যেতে বহু মানুষের অনীহার কারণেও লঞ্চের যাত্রী কমে যাচ্ছে। এসসিআরএফ জানায়, আগে ঢাকা থেকে নৌপথে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশ ছিল বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিগামী লঞ্চের যাত্রী। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে এসব জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সড়কপথে যাতায়াত করে। ফলে নৌপথে যাত্রী ও লঞ্চ- দুটোই কমেছে। যদিও লঞ্চ মালিকরা দাবি করেন, ৬০ শতাংশ যাত্রী কমে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা চরম সংকটে পড়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিতে পারেননি তারা। বরং সরকারি তথ্য অনুযায়ী, লঞ্চ ব্যবসা এখনো লাভজনক। তবে আগের তুলনায় মুনাফার হার কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মালিকরা দাবি করেন, প্রতিদিন ৩০-৩৫টি লঞ্চে মাত্র ৫-৬ হাজার যাত্রী ঢাকা ছেড়ে যায়। অন্যদিকে সরকারি তথ্য মতে, প্রতিদিন অন্তত ৬০টি লঞ্চ ঢাকা ছেড়ে যায়। বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের বরাত দিয়ে এসসিআরএফ জানায়, গত ১৯ আগস্ট ঢাকা নদীবন্দর থেকে সদরঘাট টার্মিনাল ও পার্শ্ববর্তী ঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে মোট ৬২টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। এর মধ্যে চাঁদপুর অঞ্চলের ২২, বরিশাল অঞ্চলের ১০, ভোলা অঞ্চলের ১৪, পটুয়াখালী অঞ্চলের ৬ এবং অন্যান্য অঞ্চলের লঞ্চ ছিল ১০টি।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম