ঢাকা ১১ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
‘তোমাদের উদ্দেশে কিছু বলতে চাই’—অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মন্ত্রী জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহী সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছোট করার চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রিজভী দেশে প্রথমবার নৌযান শুমারি, শুরু ২০ আগস্ট পঞ্চগড়ে ওএমএস কার্যক্রমে ভয়াবহ অনিয়ম: চালান ছাড়াই চাল পাচার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত রাষ্ট্রপতি পদে এখনও ঠিক হয়নি বিএনপি প্রার্থী : চিফ হুইপ ভূমধ্যসাগর থেকে ১৫ বাংলাদেশি উদ্ধার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার পেল চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি সাপাহারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

পঞ্চগড়ে ওএমএস কার্যক্রমে ভয়াবহ অনিয়ম: চালান ছাড়াই চাল পাচার

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ আগস্ট, ২০২৬,  2:51 PM

news image

‎পঞ্চগড়ে সরকারি খোলা বাজারে বিক্রি OMS কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি চাল পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে জেলা খাদ্য গুদাম ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত চালের বিতরনের সময় অতিবাহিত হলেও নিয়মকে তোয়াক্কা না করে চালান বিহীন বিভিন্ন ভ্যান ও অটো রিক্সায় করে জেলা খাদ্য গুদাম থেকে চাল বের হচ্ছে। বিভিন্ন OMS  কেন্দ্র পরিদর্শন করলে  অনিয়মের  অভিযোগ তুলেন সাধারণ ক্রেতারা। 

‎অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোনো ধরনের বৈধ চালান বা ডিও ছাড়াই সোমবার সকাল থেকে খাদ্য গুদাম থেকে সরকারি চাল  পাচার করা হচ্ছে। একটি ছোট পিকআপে ৭০ বস্তা এবং বিভিন্ন অটো ভ্যানে ৩০ বস্তা করে সরকারি খাদ্যশস্য অভিনব কায়দায় বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে খাদ্য গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

‎খাদ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী পঞ্চগড় জেলায় অনুমোদিত OMS ডিলারের সংখ্যা ৫ জন। কিন্তু বাস্তবে ৯ জন ডিলার দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে এই ৯ জন ডিলারের প্রত্যেককে প্রতিবারে ৫০০ কেজি করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

‎এছাড়া OMS ডিলারদের নির্ধারিত ব্যানারে খাদ্য অধিদপ্তরের নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন করে "৫ কেজি চাল, ৩ কেজি আটা" লিখে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

‎সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত OMS দোকান খোলা রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য বিক্রির বিধান রয়েছে। তবে পঞ্চগড়ের ডিলাররা প্রতিদিন দুপুর ১২টার মধ্যেই "মাল শেষ" অজুহাত দেখিয়ে দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন। সরেজমিনে দুপুর ১২টার পর গিয়েও সব দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। এতে নিম্ন আয়ের সাধারণ ক্রেতারা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

‎এসব অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট গুদামের ওসি ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করে "ম্যানেজ" করার জন্য অনুরোধ ও অনৈতিক প্রস্তাব দেন। 

‎তবে পুরো অনিয়ম ও ম্যানেজ চেষ্টার ভিডিও চিত্র প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ‎এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম