নয়াদিল্লিতে আজ শুরু হচ্ছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:18 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:18 AM
নয়াদিল্লিতে আজ শুরু হচ্ছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন
উন্নয়নশীল অর্থনীতির জোট ব্রিকসের বহুল প্রতীক্ষিত ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন আজ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিশ্বনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ভিভিআইপি রুটগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থাপন করেছে উচ্চপ্রযুক্তির ডেডিকেটেড কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্বনেতাদের মোটরকেডের গতিবিধি ও রাজধানীর সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতেই নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরাও সরাসরি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এবারের ব্রিকস সম্মেলনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও এবারের শীর্ষ বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্রিকসের প্রভাব বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবারের সম্মেলনের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
এই সম্মেলনে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি অংশীদার দেশের পাশাপাশি আরও একাধিক আমন্ত্রিত প্রতিনিধি দলের নেতারা অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আগামীকাল রবিবারও এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালে ব্রিকসের সদস্য হয় ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এদের বাইরে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, মিশর, ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।
উদীয়মান দেশগুলোর এই জোট গড়ে ওঠে মূলত পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্যে।
তবে বছর বিশেক হলো যাত্রা শুরু করা এ জোট নিয়ে বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন হলো, বিশ্বকে বহুমুখী করার ক্ষেত্রে ব্রিকসের ভূমিকা থাকলেও পশ্চিমা বিশ্বের বিকল্প হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তারা বেশ হিমশিম খাচ্ছে। পশ্চিমাদের নেতৃত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে ব্রিকস একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা দক্ষিণের দেশগুলোকে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে আরও ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক বিকল্প এনে দিয়েছে।