NL24 News
১৪ জুন, ২০২৩, 11:36 PM
নোয়াখালীতে বাসায় ঢুকে মা-মেয়েকে গলা কেটে হত্যা, প্রতিবাদে উত্তাল নোয়াখালী
শরীফুল ইসলাম আবীর: নোয়াখালী মাইজদী শহরের বালিংটন মোড় এলাকায় বুধবার বাসায় ঢুকে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল ইসলাম মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে। পুলিশ জানায়, নিহত মা মেয়ে হলেন বালিংটন মোড় এলাকার ফজলে আজিম ওরফে কচির স্ত্রী নুর নাহার বেগম (৪০) ও তাঁর মেয়ে ফাতেমা আজিম ওরফে প্রিয়ন্তী (১৬)। এর মধ্যে নুর নাহার ঘটনাস্থলে মারা যান। তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নুর নাহারের স্বামী ফজলে আজিম বলেন, তিনি শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। বুধবার সকাল ৯টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানতে পারেন, তাঁর বাসায় ডাকাত ঢুকেছে। তাৎক্ষণিক তিনি বাসায় এসে স্ত্রীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জানতে পারেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মেয়েও মারা গেছে। ফজলে আজিম বলেন, মঙ্গলবার অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন। তখন তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। ওই ব্যক্তিকে পরে আসতে বলা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি কিংবা তাঁর লোকজন ডাকাতির উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া সেজে বাসায় ঢুকে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে ধারনা করছেন। এলাকায় কারও সঙ্গে তাঁর কোনো শত্রুতা নেই। দুই তলা বাড়িটি তাঁর নিজের। নিচতলায় একটি পরিবার ভাড়া থাকে। ফজলে আজিমের বাসার একজন ভাড়াটিয়া বলেন, সকালে দ্বিতীয় তলা থেকে চিৎকার করতে করতে প্রিয়ন্তী রক্তাক্ত অবস্থায় দরজার সামনে আসে। পরে দরজা খুলে দিলে সে মেঝেতে পড়ে যায়। ওই অবস্থায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, শহরের বার্লিংটন মোড় এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত এক মেয়েকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে আনার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ মর্গে আছে। একই ঘটনায় নিহত তার মায়ের লাশ মর্গে আনার পর দুজনের লাশের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান পাঠান বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেনসহ পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা সেখানে বিষয়টি তদন্ত করছেন। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বাসায় ঢুকে মা-মেয়েকে নৃসংশভাবে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছে সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা। বিকেলে নোয়াখালীর মাইজদী শহরের হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।