ঢাকা ৩০ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯ রাজনগরে সড়কে প্রাণ গেল মা-ছেলের তিস্তা প্রকল্পে ঢাকার পাশে বেইজিং, গভীর পর্যবেক্ষণে ভারত দেশে পৌঁছেছে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় পতন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, দিশেহারা মানুষ নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকেই মিলবে পুরো মূল বেতন ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মাঝরাতে চলন্ত বাসে আগুন মুন্সীগঞ্জে হাসপাতালের ডাস্টবিনের পাশ থেকে নবজাতক কন্যাশিশু উদ্ধার হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিচার শুরু হবে কি না, আদেশ আজ

নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, দিশেহারা মানুষ

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

৩০ জুন, ২০২৬,  11:11 AM

news image

পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তীব্র হচ্ছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের রামহরি এলাকায় নদীভাঙন। গত চার দিনে ওই মৌজার তিনটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে আরও ১৫ থেকে ২০টি বাড়ি নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সরিয়ে নিয়েছেন।

এরই মধ্যে সোমবার (২৯ জুন) ভোররাত থেকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সকাল থেকেই তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। বিকেলে নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করার উপক্রম হলে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রামহরি এলাকায় তিস্তার তীরে ব্যাপক ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে। এরই মধ্যে সোমবার তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই অবস্থায় পৌঁছেছে। পানিবৃদ্ধির ফলে নদীর চরাঞ্চলের শত শত ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯.৩১ সেন্টিমিটার। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার রেকর্ড অনুযায়ী, ওই পয়েন্টে নদীর পানি ২৯.২৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে জেলার দুধকুমার নদীতে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীর পানি ও ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

রামহরি গ্রামে বাড়ি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আকলিমা বেগম বলেন, এবার বাড়িটার বাকি কোনাটুকুও নদীতে গেলে আর কোনো উপায় থাকবে না।

একই গ্রামের নুর মোহাম্মদ বলেন, এ পর্যন্ত আমরা সাতবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছি। এবার বাকি অংশটুকুও নদীতে চলে গেলে বাড়ি করার মতো নিজের আর কোনো জায়গা-জমি থাকবে না।

ঐ এলাকার মিলন মিয়া জানান, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙন রোধে সরকারের শত শত কোটি টাকা ব্যয় হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। তাই তিস্তাপাড়ের মানুষের এখন একটাই দাবি—তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় গত ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাস ছিল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে। এই পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা ৩৬টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছি, যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেসব স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম