ঢাকা ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
৭ শর্ত না মানলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না ইরান ঢাবিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ‘গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নয়, জনগণের সুরক্ষার জন্যই সাইবার সিকিউরিটি আইন’ ভুয়া ফেসবুক পেজ বন্ধে মাউশির ৭ দিনের আলটিমেটাম ভিসা থাকলেই ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না বিদেশিরা: দিল্লি হাইকোর্ট সৌদিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুথিদের হামলার নিন্দা জানাল বাংলাদেশ যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত: জামায়াত আমির ক্রীড়াবিদদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিজ দেশ জিম্বাবুয়েতে ফিরেও কাটছে না দুর্ভোগ

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন সালাউদ্দিন

#

ক্রীড়া প্রতিবেদক

০৩ অক্টোবর, ২০২৬,  3:22 PM

news image

এশিয়ান গেমসে ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে জাপানে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে সেমিফাইনালে পাকিস্তান ও ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে লিটন দাসের দলকে। দলের এমন ব্যর্থতায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।


শনিবার নিশিনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় টাইগারদের।


ম্যাচ শেষে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সালাউদ্দিন। তিনি স্বীকার করেন, দলের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করতে পারেননি তারা।


সালাউদ্দিন বলেন, সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।


এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্যের প্রতিফলন দেখা যায়নি। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের ম্যাচেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ।


শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। মাত্র ২১ রানে প্রতিপক্ষের চার উইকেট তুলে নেয় দল। তবে সেখান থেকে থারিন্দু রাত্নায়েকের ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে তারা।


বাংলাদেশের হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাউদ্দিন দায়ী করেন বোলিংয়ের কয়েকটি খারাপ ওভার এবং পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং বিপর্যয়কে।


তিনি বলেন, এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে বেশি উইকেট হারিয়েছি।


শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংও আলোচনায় এসেছে। তিন ওভারে ৪৩ রান দিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। আগের ম্যাচেও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না তিনি। তবে মোস্তাফিজের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন সালাউদ্দিন।


বাংলাদেশ কোচ বলেন, আসলে মোস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।


অধিনায়ক লিটন দাসের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ মিলিয়ে মাত্র ২ রান করেছেন তিনি। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন লিটন।


অধিনায়কসহ দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।


শ্রীলঙ্কার রান তাড়ায় শুরুতেই ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও লিটন দাস তিনজনই রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান। মাত্র ৪ রানে তিন উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল।


ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা ও মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে খেলোয়াড়দের চেষ্টার ঘাটতি দেখছেন না প্রধান কোচ। তার মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারা এবং দ্রুত উইকেট হারানোই পরাজয়ের অন্যতম কারণ।


সালাউদ্দিন বলেন, প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।


এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এমন বিদায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় দলের একাধিক নিয়মিত ক্রিকেটার নিয়েও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় দলের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্স নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম