আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ অক্টোবর, ২০২৫, 11:21 AM
দুই বছরের যুদ্ধের অবসান, মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি বন্দিরা
গাজায় দীর্ঘ দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক বন্দিবিনিময় চুক্তিতে পৌঁছেছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় গাজায় বন্দি থাকা ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। অন্যদিকে ইসরায়েল তাদের কারাগার থেকে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। হামাস দুই দফায় ইসরায়েলি জিম্মিদের আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) কাছে হস্তান্তর করে। মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলিরা সীমান্ত পার হয়ে নিজ দেশে পৌঁছেছেন এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পুনর্মিলনের সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে বহনকারী বাসগুলো গাজায় পৌঁছালে হাজারো মানুষ আনন্দাশ্রু নিয়ে তাদের বরণ করে নেয়। গাজার রাস্তাজুড়ে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। এদিকে একই দিনে মধ্যপ্রাচ্য সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দিয়ে তিনি বলেন, আকাশ শান্ত, বন্দুক নীরব, সাইরেন থেমে গেছে এবং অবশেষে পবিত্র ভূমিতে শান্তি বিরাজ করছে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি উভয়ের জন্য এটি ছিল এক দীর্ঘ দুঃস্বপ্নের অবসান। নেসেটে ভাষণ শেষে বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি ও গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য মিশরের শারম আল–শেখে আয়োজিত ‘শান্তি সম্মেলনে’ যোগ দেন ট্রাম্প। এই সম্মেলনে অংশ নেন মিশর, কাতার ও তুরস্কের নেতারা, যারা গাজায় যুদ্ধবিরতি টেকসই করা ও পুনর্গঠন পরিকল্পনায় একমত হন। সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম্প গাজা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি সেরা চুক্তিগুলোর মধ্যে সেরা। এখন পুনর্গঠন শুরু হচ্ছে। মিশরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, আলোচনায় গাজার প্রশাসন, নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যদিও ইসরাইল ও হামাসের কোনো প্রতিনিধি এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না, তবুও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। ইসরায়েলের আপত্তি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।