নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ জুন, ২০২৩, 3:07 PM
তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং, অতিষ্ঠ মানুষ
তীব্র গরমে যখন জনজীবনে নাভিশ্বাস তখন অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষ। জ্বালানি সংকটে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো অঞ্চলে দৈনিক চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আবার কোথাও বা আট থেকে দশ ঘণ্টাও থাকছে না বিদ্যুৎ। ব্যহত হচ্ছে লেখাপড়া, ব্যবসা, চিকিৎসাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় একটু স্বস্তির খোঁজে মধ্য রাতেও অনেকে বেরিয়েছেন ঘরের বাইরে। কেউ সারিবদ্ধভাবে ফুটপাতে বসে একটু বাতাসের অপেক্ষায় আবার কেউ হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন ছোট্টশিশুকে। কেউ আবার খালি গায়ে, গামছা গলায় বিদ্যুতের অপেক্ষা করছেন। শনিবার (৩ জুন) মধ্যরাতে রাজধানীর মতিঝিল গরম পানির গলি, ফকিরাপুল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় দেখা গেছে এমন চিত্র।
শিল্প কলকারখানা, দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরম, পানি শূন্যতা, উৎপাদন বন্ধ হয়ে আর্থিক ক্ষতি, অসুস্থতার হার বৃদ্ধিসহ ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী। রাজধানীর বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে তিনবার কারেন্ট চলে যায়। তিনবারে ছয়ঘণ্টা কারেন্ট থাকে না। এ সময় ঘরে থাকা যায় না, ঘুমানো যায় না। রাত দুই-তিনটা পর্যন্ত না ঘুমিয়ে বাইরে বসে থাকতে হয়। বিদ্যুতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাসায় গ্যাস-পানিও থাকে না। সব সমস্যা যেন একসঙ্গে এসেছে। দিনে তিনবার কারেন্ট থাকে না। আর বাসা এমন চিপাচাপায় যে বেশিক্ষণ থাকলে দম বন্ধ হয়ে মারা যাব। বিদ্যুতের খুবই দুরাবস্থা। দিনে কাজ করা যায় না, রাতে ঘুমাইতে পারি না। জীবন একেবারে অতিষ্ঠ। এভাবে চলতে থাকলে একজন মানুষ কীভাবে সুস্থ থাকতে পারে? প্রচণ্ড গরমে ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা যাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান তারা। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ খান বিপু বলেন, কয়েকটি পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। কিছুদিন এ পরিস্থিতি চলবে। কয়লার অভাবে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র (পায়রা) অর্ধেক বন্ধ অবস্থায় আছে। ৫ তারিখের পর বাকি অর্ধেকও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সিস্টেমে একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কিছুটা জনদুর্ভোগ বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের ওপরে লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মূলত ডলার সংকটে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেল আমদানি বিঘ্নিত হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দু-এক মাস সময় লাগবে।