নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, 2:04 PM
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: অধ্যাদেশের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবরোধ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে ঢাকার টেকনিক্যাল, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, তাঁতীবাজার ও মহাখালী আমতলী মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা ১২টার দিকে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। একই সময়ে টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেন মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেলা সোয়া ১২টার দিকে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীর মিছিল নিয়ে এসে মহাখালীর আমতলী মোড় অবরোধ করেন। বেলা ১টার দিকে ঢাকা ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় আটকে অবস্থান নেন। সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী এস এইচ রবিউল্লাহ বলেন, "আমরা প্রথমে ভিক্টোরিয়া পার্কে সমবেত হয়েছি। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে এসে আমরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেছি।" মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মো. জুয়েল রানা বলেন, "আমরা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে এসে টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেছি। আমরা চাই বৃহস্পতিবারের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি হোক। আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরাও আসছেন।" বেলা পৌনে ১২টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বের হন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা বেলা সোয়া ১২টার দিকে মহাখালী আমতলী মোড় অবরোধ করেন। ঢাক কলেজের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, "আমরা অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছি। সকাল থেকেই ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ঢাকা ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছেন। আমরা ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে এসে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছি।" দুপুরের ব্যস্ত সময়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যবহত হচ্ছে। ফলে আশপাশের সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের হালনাগাদ খসড়ার অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের একাংশ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা বলছেন, তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫ এর অনুমোদন দিয়ে একই দিনে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন তারা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশর খসড়া প্রকাশিত হয়। সেখানে প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করছেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের কার্যক্রম যখন চলছে, তখন এর আশু কাঠামো নিয়ে কলেজগুলোর শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীদের কয়েকটি অংশ মুখোমুখি অবস্থান রয়েছেন। খসড়া অধ্যাদেশে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ বা 'স্কুলিং' কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী কলেজগুলো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে। ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাতটি কলেজসহ সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কায় আছেন। তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে 'অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে' নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন। অপর দিকে উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতই প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধিতা করে বলছেন, স্কুলিং কাঠামোতে কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে না। এমন বাস্তবতায়, ওই খসড়া পরিমার্জিন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।পরিমার্জিত খসড়াটিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করে মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে। বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, "সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রণীত এই অধ্যাদেশটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। "ইতিমধ্যেই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করা হয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উচ্চশিক্ষার এই নতুন কাঠামোটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পেশাদারত্ব এবং ধৈর্যশীল সহযোগিতা একান্ত কাম্য।" 'অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবে' বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন যেন 'ব্যাহত না হয়', সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে।