ঢাকা ১৯ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ : পাসিং আউট প্যারেড ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী র‍্যাব আগের মতো থাকছে না, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফুটপাতে হকারদের জায়গা বরাদ্দ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল ঢাকায় চার মাসে ২১৪ ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা সিলেট সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের গোলাগুলি ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কুরবানির চামড়া সংরক্ষণে সরকারের একাধিক উদ্যোগ দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলায় নিহত বেড়ে ৫

ঢাকায় চার মাসে ২১৪ ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মে, ২০২৬,  12:13 PM

news image

সব ধর্ষণের ঘটনা যাচ্ছে না থানা-আদালতে

রাজধানীতে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে রাজধানী ঢাকার ৫০টি থানায় অন্তত ২১৪টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। এর বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটছে। সেসব ঘটনা বিচারের জন্য থানা পর্যন্ত আসছে না।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন জিআর-২-এ অন্তর্গত রাজধানীর ১০টি থানা যথাক্রমে উত্তরা-পূর্ব, উত্তরা-পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ, গুলশান, বনানী, লালবাগ, চকবাজার ও কামরাঙ্গীরচর। এসব থানায় জানুয়ারি থেকে গত সপ্তাহ পর্যন্ত ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৪৬টি মামলা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন জিআর-৩ অন্তর্গত রমনা, শাহবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল, সূত্রাপুর, রূপনগর, পল্লবী, কাফরুল, ভাসানটেক ও রামপুরা থানায় চলতি বছর ৩১টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন জিআর-৫ অন্তর্গত মিরপুর মডেল, শাহআলী, দারুস সালাম, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, হাজারীবাগ, বিমানবন্দর, কলাবাগান, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট থানায় চলতি বছর ৬১টি মামলা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন জিআর-৪-এ অন্তর্গত তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগর, মোহাম্মদপুর, আদাবর, হাতিরঝিল, বাড্ডা, ভাটারা, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় ৪৫টি মামলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন জিআর-১ খিলগাঁও, কদমতলী, সবুজবাগ, মতিঝিল, পল্টন, শাহজাহানপুর, মুগদা, শ্যামপুর, ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া থানায় ৩১টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মমালা করা হয়েছে।

আইনে ধর্ষণের মামলায় অপরাধী হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবসে এবং হাতেনাতে ধরা না পড়লে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছর পার হয়ে যায়। এতে বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর। ফলে ধর্ষণের বিচার ও শাস্তি দৃশ্যমান হচ্ছে না।

অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কামরাঙ্গীরচর থানার বড়গ্রামে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রতিবেশী সজিব হাওলাদারের (২১) দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয় সাড়ে ৪ বছর বয়সী এক শিশু। ওই শিশু খেলাধুলা করার সময় লিপস্টিক দেওয়ার প্রলোভনে রুমে নিয়ে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসামি। এ ঘটনায় আসামিকে তখনই ভুক্তভোগীর পরিবারসহ আশপাশের প্রতিবেশীরা হাতেনাতে আটক করে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি মামলা করে শিশুটির পরিবার। হাতেনাতে ধরা পড়লে আসামির বিরুদ্ধে ১৫ দিনে চার্জশিট দেওয়ার বিধান থাকলেও প্রায় সাড়ে তিন মাস পার হতে চলেছে। এখনো আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে পারেনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এমরান হোসেন। প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য এ পর্যন্ত ছয়বার সময় নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ জুন দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এমরান হোসেন বলেন, ‘ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পেতে দেরির কারণে ধর্ষণ মামলার রিপোর্ট দিতে দেরি হয়। আমরা তদন্ত করছি। শেষ হলে প্রতিবেদন জমা দেব।’

চলতি বছরে দেশের নারী ও শিশুকে ধর্ষণ-ধর্ষণচেষ্টা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গত সপ্তাহে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে দেশে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৭ জনের ক্ষেত্রে, যার মধ্যে ১২ শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণের পর লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করেছে দুই শিশু।

এদিকে বিচার পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ার কারণে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণচেষ্টার সব ঘটনা থানা বা আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে না। গত মার্চ মাসে কোতোয়ালি থানা এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন কলেজপড়ুয়া এক নারী। রাতে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে এক বখাটে তাকে শ্লীলতাহানি র চেষ্টা করেন। পরে কৌশলে পালিয়ে আসেন সেই ভুক্তভোগী। কিন্তু মামলা করলে নতুন করে হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ে ও বিচারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আদালত চত্বরে ঘুরতে হবে ভেবে মামলা করেননি তিনি। ওই শিক্ষার্থী কালবেলাকে বলেন, ‘আসামিকে চিনি না। বিচার কবে পাব ঠিক নেই। নতুন করে আর হেনস্তা হতে চাই না।’

উচ্চ আদালতের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ঢাকার ৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল ১৫ হাজার ৪৬৯টি মামলা। এর মধ্যে ৫ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন ছিল ৩ হাজার ৯১টি মামলা। যেখানে ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের মামলার বিচার শেষ করার বিধান রয়েছে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় দেশে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান সাজু বলেন, ‘দেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় বেকারত্ব, অস্থিরতা ও সুস্থ বিনোদনকেন্দ্র কমে গেছে। এতে সমাজে অপরাধ বেড়ে গেছে। ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক অপরাধ কমাতে হলে সুস্থ বিনোদনকেন্দ্র বৃদ্ধিসহ দেশে পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া আদালত ও বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করতে হবে। দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিষ্পত্তি হলে ভয়ে সমাজ থেকে ধর্ষণের ঘটনা কমে যাবে।’ সূত্র : দৈনিক কালবেলা 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম