NL24 News
০৫ মে, ২০২৬, 4:02 PM
ডাক্তার আছে উপস্থিতি নাই, নৈশ প্রহরী দিয়ে চলছে হাসপাতাল
চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ
আফনান চৌধুরী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা বাঁশখালী উপজেলার পুইছুড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। হাসপাতালের আছেন নিরাপত্তা প্রহরী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দিন, ভিতরে শুয়ে আছেন কয়েকজন রোগী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোস্টার নিয়মনুযায়ী সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার পুইছুড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকার কথা মেডিকেল অফিসার ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস শশী। হাজিরা খাতায় সই আছে, তবে তিনি নেই। অনেক সময় দেখা গেছে সাক্ষর মিল নাই। চিকিৎসক ও তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে নৈশ প্রহরী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দীন বলেন ম্যাডাম আসার কথা থাকলেও এখন ও পর্যন্ত আসেন নি। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মুহাম্মদ মুঈন।
সরেজমিনে উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ভিতরে কয়েকজন রোগী বসে আছেন, নৈশ প্রহরীর দায়িত্বে থাকা মুঈন সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাজিরা খাতায় প্রতি সপ্তাহে তার উপস্থিতর সাক্ষর থাকলে ও, অনেক সাক্ষরের গরমিল দেখা যায়। এসব সাক্ষর একেকটার সাথে একেকটা গরমিল। রোগীরা এসে ডাক্তার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চলে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও রোগীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, সরকারি সময়নুযায়ী নয় চিকিৎসকদের ইচ্ছেমতো খোলা হয় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বন্ধও হয় তাদের ইচ্ছেমতো। কপাল ভালো হলে তাদের পাওয়া যায়। নয়তো নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করে নিতে হয়। এই ডাক্তার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেনা টিক, কিন্তু প্রতিদিন উপজেলা সদরে প্রাইভেট চেম্বার করেন। তার বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকায় সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক বছর যাবৎ লেখালেখি হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। তার খুঁটির জোর কোথায়? খুঁজে বের করা হউক। আমরা এ ব্যাপারে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সহ বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ডিউটি ছাড়া সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের কথা দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস শশীর। তাকে পূর্বেও শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই ডাক্তার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে না যাওয়ার অভিযোগ অনেক পুরানো বিষয়। মৌখিকভাবে তাকে অনেকবার সতর্ক করা হয়েছে। এবার আমরা তার বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।