আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬, 3:00 PM
ট্রাম্পের নির্দেশের পর ভেনেজুয়েলায় একাধিক বিস্ফোরণ
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এরপর সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। আজ শনিবার দেশটির স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে বিস্ফোরণের শব্দ হয়। খবর বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরার কারাকাসে থাকা সিএনএনের সংবাদদাতা ওসমারি হার্নান্দেজ বলেন, ‘বিস্ফোরণটি এত জোরে ছিল যে, তার পরে আমার জানালা কাঁপছিল। শহরের বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন ছিল। বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিস্ফোরণ এবং বিমানের খবর সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত আছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপের পর এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে মাদক পাচার ও অপরাধের মাধ্যমে আমেরিকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগ করছেন। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করেছে সিএনএন টিম। তারা জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর শহরের কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন ছিল। প্রথম বিস্ফোরণটি স্থানীয় সময় আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে রেকর্ড করা হয়েছিল। সিএনএনের পাওয়া এবং যাচাইকরা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মধ্য রাতে কারাকাস শহরের আকাশে দুটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠে আসছে। একটি প্লুমের গোড়ায় কমলা রঙের আভা দেখা যাচ্ছে। তারপর অন্য একটি স্থানে কিছুক্ষণের জন্য একটি ঝলকানি দেখা যাচ্ছে।
তারপরে একটি মৃদু গর্জনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার সংবাদমাধ্যম ইফেক্টো কোকুয়ো এবং তাল কুয়াল ডিজিটাল জানিয়েছে, কারাকাসের উত্তরে এবং দেশটির উপকূলে লা গুয়াইরা রাজ্যে এবং মিরান্ডা রাজ্যের উপকূলে অবস্থিত হিগুয়েরোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং স্থলপথে হামলা ‘শীঘ্রই’ শুরু হবে। গত বছরের অক্টোবরে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি দক্ষিণ আমেরিকান দেশ থেকে অভিবাসী এবং মাদকের অবৈধ প্রবাহ দমন করার জন্য ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে কাজ করার জন্য সিআইএকে অনুমোদন দিয়েছেন। সিএনএন মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউস, পররাষ্ট্র দপ্তর ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।