নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 11:00 AM
টিসিবির ট্রাকে নিম্নবিত্তের লাইন
► আছে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত, শিক্ষার্থীরাও ► মাছ-মাংস বিক্রির দাবি সবার
স্বল্পদামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে রমজানের টিসিবির ট্রাক সেলে ভিড় জমিয়েছে ক্রেতারা। লাইনে দাঁড়ানোর সিরিয়াল নিয়ে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। ছবিটি গতকাল রাজধানীর টিকাটুলি এলাকা থেকে তোলা -রোহেত রাজীব রাজধানীর আফতানগরে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) গাড়ির সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মর্জিনা বেগম নামে এক গৃহকর্মী। কারণ জানতে চাইলে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রোজা রেখে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পাইনি কিছুই। টিসিবির গাড়ি চলে গেল। আমি আগে এক বাসায় কাজ করতাম তারাও আসছে এই লাইনে। ছাত্ররাও এখন আসে টিসিবির লাইনে। তাহলে আমরা গরিব মানুষ কোথায় যাব, কী খাব? এই বলেই হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মর্জিনা বেগম। রাজধানীর আফতাবনগরে গতকাল দুপুরে টিসিবির লাইনে মর্জিনা বেগমের মতো আরও অনেককেই দেখা যায় হতাশাগ্রস্ত। আর যারা পণ্য সংগ্রহ করতে পেরেছেন তাদের মুখে দেখা যায় বিজয়ের হাসি। অটোচালক আসাদ মিয়া বলেন, আমি চিনি কিনতে পেরেছি। বাকি সব শেষ হয়ে গেছে শুরুতেই। তবু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই খালি হাতে ফিরে গেছেন। আমি তো একটা পণ্য কিনতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশাহারা সাধারণ মানুষ। রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি টিসিবির পণ্যে পাওয়া যাচ্ছে চিনি, মসুর ডাল, ভোজ্য তেল, ছোলা ও খেজুর। টিসিবির গাড়িতে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, মসুর ডাল কেজিতে ৭০ টাকা, ভোজ্য তেল লিটার প্রতি ১১৫ টাকা, ছোলা কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, খেজুর কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আরও দেখা যায়, কম দামে পণ্য পেতে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ টিসিবির গাড়ির সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তের সঙ্গে এই লাইনে শামিল হচ্ছেন বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা। শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষের পাশাপাশি ঢাকায় মেসে থাকা বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও ছিলেন এই লাইনে। টিসিবির পণ্য বিক্রেতাদের একজন রফিক আহমেদ বলেন, অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফলে পণ্য দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। মারামারি পর্যন্ত হয়। প্রায়ই আমাদের গাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হই। আবার এখানে রয়েছে চাহিদার তুলনায় পণ্যরও সংকট। রমজান মাসজুড়েই চলবে টিসিবির নিয়মিত ট্রাকসেল কার্যক্রম। এ কার্যক্রমে চিনি, ডাল, তেল, ছোলা ও খেজুরসহ পাঁচটি প্যাকেজ পাচ্ছে ক্রেতারা। রামপুরা বাজারের পাশে মেসে থাকেন কবি নজরুল সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত হাসিব মোল্লা। তিনি বলেন, আমি টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাই। যে এলাকায় বেশি টাকার টিউশনি পাই সেই এলাকায় মেস ভাড়া করি। টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে পারলে ভালো হয়। এত বেড়েছে যে দোকান থেকে ক্রয় করে খাওয়াটাই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। তাই সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি টিসিবির পণ্য কেনার। আমরা সাধারণ মানুষ চাই শুধু জিনিসপত্রের দাম যেন কমে। সরকার টিসিবি দিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছে তাতে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। সূত্র : বিডি প্রতিদিন