ঢাকা ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই বিগত দুই সরকার হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা নিয়ে সুখবর দিল পাকিস্তান ইউএইচএফপিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী প্রথম হজ ফ্লাইটে ৪১৯ বাংলাদেশি সৌদি আরব পৌঁছেছেন খুলনা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে কনস্টেবলের রহস্যজনক মৃত্যু ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে মেটা প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ‘ফুয়েল পাস’ নিয়ে নতুন বার্তা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের

টাকা ছাপিয়ে ফের ঋণ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মার্চ, ২০২৫,  3:02 PM

news image

সংকটে থাকা দুই ব্যাংক পেল ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

সমালোচনা উপেক্ষা করে টাকা ছাপিয়ে আবারও ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংকটে থাকা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের জন্য আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই আড়াই হাজার কোটি টাকাসহ বর্তমান গভর্নর এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪১০ কোটি টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) তারল্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় মদদে এস আলমসহ কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ কারণে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই ব্যাংকগুলো। কয়েকটি ব্যাংকের বাজে অবস্থার প্রভাব পুরো খাতে পড়তে পারে– এমন আশঙ্কায় গত নভেম্বরে ছয়টি ব্যাংককে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে জানুয়ারিতে আরও ৪ হাজার ৯১০ কোটি টাকা দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি টাকা ইস্যুকে ‘মানি প্রিন্টিং’ বা ‘টাকা ছাপানো’ বলা হয়। অবশ্য এই ছাপানোর অর্থ কাগুজে নোট ছেপে ব্যাংকগুলোকে দিচ্ছে তেমন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা স্থানান্তর করে। তারা সমপরিমাণ টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিতে পারে। প্রয়োজনে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারে।

নোট ছাপিয়ে দিলে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়ে। যে কারণে টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে গভর্নর আগের অবস্থান বদলে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলেই দুর্বল ব্যাংককে টাকা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি টাকা দিলে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়ে। তবে ব্যাপক মাত্রায় যেন প্রভাব না পড়ে, সেজন্য একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের মাধ্যমে বাজার থেকে উদ্বৃত্ত টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের মাধ্যমে টাকা তুলছে। যদিও এ উদ্যোগে তেমন সাড়া নেই। সামগ্রিকভাবে গত বছর ব্যাংক খাতের আমানত বেড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অধিকাংশ ব্যাংক তারল্য সংকটে চলায় এমন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট চলছে। আস্থা বাড়ানোর জন্য আমানতকারীকে বোঝাতে হবে, যে কোনো অঙ্কের টাকা ব্যাংক ফেরত দিতে সক্ষম। এ কারণেই টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন উপায়ে যে পরিমাণ টাকা উঠে আসছে, বাজারে তার কম দেওয়া হচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ধারের প্রভাব তেমন নেই মূল্যস্ফীতিতে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম