ঢাকা ০৬ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সাতক্ষীরায় ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: ধোঁয়ায় অসুস্থ অন্তত ৫০, রোগী সরিয়ে নিল ফায়ার সার্ভিস-বিজিবি রক্তের আখরে লেখা গণঅভ্যুত্থান, ইতিহাসের নতুন বাঁকে বাংলাদেশ ‎বাগেরহাটে একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের দুই দফায় সংঘর্ষ বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের বিধান নিয়ে হাইকোর্টের রুল ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬,১২৫ জনপ্রত্যাশা পূরণে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Barguna YfP Committee-এর সামাজিক জবাবদিহিতা অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের সফল সমাপ্তি

জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ মার্চ, ২০২৬,  12:38 PM

news image

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে। রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তবে ইতোমধ্যে আমদানিকৃত কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১৫ মার্চ থেকে দেশের সব বিতরণ পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত বাড়ে এবং একই সময়ে বোরো ধানের মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের চাহিদাও বেশি থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আপাতত রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পরে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে’ এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে গত ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়। তখন মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক দুই লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি যান ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয় এবং সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়। তবে ঈদ সামনে রেখে এখন সেই সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেশনিং ব্যবস্থার কারণে গত কয়েক দিনে অনেক এলাকায় ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কিছু জেলায় পাম্প মালিকদের অভিযোগ ও সরবরাহ সংকটের কারণে সাময়িকভাবে তেল উত্তোলনও বন্ধ ছিল। ফলে পরিবহন খাত ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলেন, সীমিত সরবরাহ ও বিক্রির বিধিনিষেধের কারণে পাম্প পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। ঈদ সামনে রেখে রেশনিং প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পরিবহন ও জ্বালানি বাজারকে স্বস্তি দেবে। তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। তাই সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম