জ্বালানি তেলের উত্তাপ বাজারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:27 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:27 AM
জ্বালানি তেলের উত্তাপ বাজারে
পরিবহন খরচের বোঝা চেপেছে নিত্যপণ্যে
রাজধানীর বাজারে আবারও চড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। কাঁচাবাজার থেকে মুদি দোকান সব জায়গায় পরিবহন ব্যয়ের এই বাড়তি বোঝা চাপ বাড়াচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সবজি কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারা। বেগুন ও শিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ডিম, মাছ, মাংস ও কয়েকটি মুদি পণ্যেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। লাউ-পেঁপে ছাড়া আর কোনো সবজিতেই স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা।
একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি ঢাকায় আনতে আগের তুলনায় বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। ফলে নতুন চালানের পণ্যে পরিবহন ব্যয় যোগ হয়ে দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক প্রভাবের চেয়ে বেশি দাম বাড়ানো হচ্ছে। তারা পাইকারি ও খুচরা-উভয় পর্যায়ে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
শারমিন আক্তার নামে এক গৃহিণী বলেন, প্রতি সপ্তাহেই বাজারে এসে নতুন দাম দেখি। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের সবজি কিনতাম, এখন সেই টাকায় অর্ধেকও হচ্ছে না।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম বিভাগ) আতিয়া সুলতানা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যবসায়ী বা অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিমসংকট তৈরি করে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার নজরদারি করা হচ্ছে। কৃত্রিমসংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল রাজধানীর মিরপুর-১১, মুসলিম ও কালশী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ১২০-১৩০ এবং শিম ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
করলা ৮০, শসা ৫০-৬০, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৭০, কচুমুখি ৬০-৭০ এবং কাঁচামরিচ ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম মানভেদে ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে লাউ ও পেঁপেতে। মানভেদে প্রতি পিস লাউ ৪০-৫০ এবং পেঁপে ৩০-৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও কমেনি চাপ। ভরা মৌসুম হলেও ইলিশের কেজি ১৫০০-২০০০ টাকা থেকে শুরু করে আকারভেদে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতলা ৩২০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বড় মাছের দাম আরও বেশি। পাঙাশ ২০০-২২০, চাষের কই ২০০-২৪০ ও তেলাপিয়া ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পাবদা ৪০০-৪৫০, টেংরা ৫৫০-৬০০, শিং ও মাগুর ৬০০-৭০০, শোল ৭০০-৮০০ এবং বিভিন্ন জাতের চিংড়ি ৬৫০-৮৫০ টাকা কেজি। ডিম ও মুদি পণ্যের বাজারেও বেড়েছে ব্যয়। ফার্মের লাল ডিম ডজনে ৫-১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, পিঁয়াজ ৬০, আমদানি করা রসুন ১৮০-২০০, মোটা মসুর ডাল ৯০-১০০, চিকন মসুর ১৬০, খোলা আটা ৫০, ময়দা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
-বাংলাদ্শে প্রতিদিন