ঢাকা ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র হতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভারত ক্ষমা না চাওয়ায় লিজেন্ডস টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াল পাকিস্তান জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস আজ ভারতভাগের পর প্রথমবার আসাম থেকে ঢাকার আন্তর্জাতিক নৌপথে পণ্য পরিবহন ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৪ মিনিটে চার গোল করে জিতল জিদানের ফ্রান্স ৪৯তম বিসিএস থেকে আরও ৪০ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ শাহজালালে ৩ যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৬৩১ কার্টন সিগারেট জব্দ

জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস আজ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ অক্টোবর, ২০২৬,  11:29 AM

news image

‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস’ আজ। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ভুল তথ্য সংরক্ষণ এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো- ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’।


জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন একজন নাগরিকের আইনগত পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একটি শিশুর জন্মের পর তার জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নথিতে তার অস্তিত্ব ও পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত হয়।


একইভাবে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর মৃত্যু নিবন্ধনের মাধ্যমে তার মৃত্যুর তথ্য সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব অপরিসীম।


জন্ম নিবন্ধন সনদ বর্তমানে নাগরিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি, পাসপোর্ট তৈরি, সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ, বিয়ে নিবন্ধন, চাকরি, ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ নানা ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে শিশুর শিক্ষা, নাগরিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে জন্মের পর যথাসময়ে সঠিক তথ্য দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করা গুরুত্বপূর্ণ।


জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিশুর নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, বাবা-মায়ের নামসহ অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করা হলে পরবর্তী সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথিতে তথ্যের অমিল দেখা দিতে পারে। এতে নাগরিকদের প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি সময় ও অর্থের অপচয়ের মুখে পড়তে হয়। তাই জন্ম নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে নির্ভুলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


অন্যদিকে মৃত্যু নিবন্ধনও রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত না হলে পরবর্তী সময়ে তার সম্পদ, উত্তরাধিকার, পারিবারিক অধিকার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।


সঠিকভাবে মৃত্যু নিবন্ধন করা হলে মৃত ব্যক্তির সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ করার পাশাপাশি উত্তরাধিকারী ও পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করাও সহজ হয়।


জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য একটি দেশের জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্ভুল ও হালনাগাদ নিবন্ধন ব্যবস্থা সরকারের পরিকল্পনা প্রণয়ন, জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণে সহায়তা করে।


জন্ম ও মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি পরিকল্পনা গ্রহণ করা আরও সহজ হয়।


জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব রয়েছে। কোনো এলাকায় জন্মহার, মৃত্যুহার, শিশুমৃত্যু কিংবা নির্দিষ্ট বয়সে মৃত্যুর প্রবণতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব। রোগের প্রকোপ, মৃত্যুর কারণ এবং জনসংখ্যার পরিবর্তন বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও নির্ভুল মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।


ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমেও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হয়েছে। এর ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি তথ্য সংরক্ষণ, যাচাই এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার সঙ্গে তথ্যের সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিবন্ধন কার্যক্রমের মান উন্নয়ন জরুরি।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু দিবস পালন নয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা তৈরি করতে হবে।


জন্মের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন এবং মৃত্যুর পর যথাযথভাবে মৃত্যু নিবন্ধনের বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয় জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিবন্ধন কার্যক্রমে কোনো ধরনের হয়রানি, অনিয়ম, ভুল তথ্য কিংবা দীর্ঘসূত্রতা যাতে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর নজরদারি করতে হবে।


জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে আজ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।


এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা, নাগরিক জীবনে এর ব্যবহার এবং সঠিক তথ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।


‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’-এ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সঙ্গে সুশাসনের সম্পর্ককেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।


নাগরিকের জন্ম ও মৃত্যুর সঠিক তথ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকলে সরকারি সেবা প্রদান, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক হয়।


জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবসের মূল লক্ষ্য হলো জন্ম ও মৃত্যুর তথ্যকে একটি দেশের নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যভাণ্ডারের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের নিবন্ধন নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও সেবা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।


তাই প্রতিটি নাগরিকের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি নির্ভুল, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক নাগরিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  বাসস

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম