ঢাকা ১২ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু ‘তোমাদের উদ্দেশে কিছু বলতে চাই’—অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মন্ত্রী জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহী সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছোট করার চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রিজভী দেশে প্রথমবার নৌযান শুমারি, শুরু ২০ আগস্ট পঞ্চগড়ে ওএমএস কার্যক্রমে ভয়াবহ অনিয়ম: চালান ছাড়াই চাল পাচার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত রাষ্ট্রপতি পদে এখনও ঠিক হয়নি বিএনপি প্রার্থী : চিফ হুইপ ভূমধ্যসাগর থেকে ১৫ বাংলাদেশি উদ্ধার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার পেল চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে স্মরণ: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সম্মান ও স্বীকৃতির গল্প

#

১০ জুন, ২০২৬,  11:14 AM

news image

যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার ঈদের ছুটি থাকায় দেশে আজ এই দিবস পালিত হতে যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। বিভিন্ন সময় জাতিসংঘও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের এই অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ ও নাজুক অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, বরং বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও ভূমিকা রাখছেন।

এই দায়িত্ব পালনের পথে ইতোমধ্যে অনেক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের এই ত্যাগ দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরও সমুন্নত হয়েছে।

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি জাতিসংঘের স্বীকৃতি ও প্রশংসার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয় উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে ২০০৭ সালের একটি ঘটনা। ওই বছর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস সফলভাবে উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

২০০৭ সালের ৩১ মে’র ওই চিঠিতে তৎকালীন জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাটা লক-দেসালিয়েন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানকে লেখা এক চিঠিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। 

চিঠিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানকেও ধন্যবাদ জানানো হয়। ওই সময় তিনি তৎকালীন সেনা সদর দপ্তরের ওভারসিজ অপারেশনস অধিদপ্তরের পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

জাতিসংঘ দিবসে সংস্থাটির স্বীকৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং একটি নির্ভরযোগ্য ও সম্মানিত অংশীদার। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও আত্মত্যাগ বিশ্বে দেশের সুনাম আরও বাড়াবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম