চাঁদা না দেওয়ায় বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে মারধর, থানায় লিখিত অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ আগস্ট, ২০২৬, 1:17 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ আগস্ট, ২০২৬, 1:17 PM
চাঁদা না দেওয়ায় বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে মারধর, থানায় লিখিত অভিযোগ
ফয়জুল ইসলামঃ সাভারের আশুলিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় ডেইরি ফার্মের ভেতরে ঢুকে এক ব্যক্তি ও তাঁর দুই ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলায় জয়নাল মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন এবং তাঁর অণ্ডথলির চামড়া ছিঁড়ে যাওয়ার মতো জখম হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরে আহতদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মো. সজিব শেখ (২২) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে আবেদ আলী (৪২) নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
সজিব শেখের অভিযোগ, তিনি ও তাঁর বাবা জয়নাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া থানাধীন কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে কর্মরত। একই প্রতিষ্ঠানে আবেদ আলীর চাচা মো. শহর আলী (৫৫) কর্মরত রয়েছেন। প্রায় এক বছর ধরে আবেদ আলী ও শহর আলীর সঙ্গে ডেইরি ফার্ম এলাকায় মসজিদের আওতাভুক্ত একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সজিব দাবি করেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আবেদ আলী ডেইরি ফার্মের ভেতরে ব্যবসা করতে হলে তাঁর বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তাঁর বাবা ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবেদ আলী তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর বাবাকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১ টার দিকে সজিব শেখ, তাঁর বাবা জয়নাল মিয়া এবং বড় ভাই রাসেল মিয়া ডেইরি ফার্মের কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আবেদ আলীসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জন সেখানে প্রবেশ করেন। তাঁরা আগের দাবিকৃত ২০ হাজার টাকা চাঁদা চান। জয়নাল মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা পুকুর থেকে আহরণ করা মাছ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সজিবের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁর বাবা জয়নাল মিয়াকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে জয়নালের অণ্ডথলির চামড়া ছিঁড়ে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সজিব ও তাঁর বড় ভাই রাসেল মিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয়। পরে তাঁদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যান বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি বাইরে প্রকাশ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং যেকোনো সময় জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের ভিতরের বাসিন্দা ও আশপালের এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের মুর্তমান প্রতিক আবেদ আলী। বহিরাগত হয়েও চাচা শহর আলীর চাকুরী সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে সে সরকারী কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছে। বিশাল আয়তনের এই ডেইরী ফার্মের ভিতরেই তার অপরাধ সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছে আবেদ আলী।
সাভারের কলমা উত্তর পাড়া এলাকার আমিনুল এবং পাথালিয়া ইউনিয়নের আমবাগান এলাকার কোরবান আলী মাস্টারের ছেলে সাইকো মারুফসহ আবেদ আলীর গ্রুপে সক্রীয় সন্ত্রাসী বাহীনি রয়েছে। তাদের অপকর্মের ফিরিস্তি স্থানীয় বাসিন্দারা সবাই জানলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।
আমিনুলের বাবা বিনোদ ড্রাইভার একসময় ডেইরী ফার্মে চাকুরী করতো এবং ডেইরী ফার্মের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন বাড়ি হওয়ায় তারা অবরাধ করে দ্রুত সটকে পড়ে। সাভার ডেইরী ফার্মের ঘাস চুরি, ছিনতাই, নারীদের শ্লীলতাহানি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের হোতা আমিনুল ও আবেদ আলীকে রাজনৈতিকভাবে শেল্টার দিতো পতিত সরকারের ঢাকা জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সাইকো মারুফ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সাইকো মারুফের নের্তৃত্বে বখাটে আবেদ আলী পতিত সরকারের আমলে সাভার ডেইরী ফার্মের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে। এমন কোন লোক খোঁজে পাওয়া যাবেনা যার সাথে তারা অন্যায় করেনি। গত ৫ আগষ্টের আগে সরকার পতনের আন্দোলনের সময়ও আবেদ আলী সাভারের রাজিব ও সমরের নাম ভাঙ্গিয়ে আমাদেরকে হুমকি দিয়েছে। তাদের নেতৃত্বেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছিলো। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া খেয়ে ডেইরী ফার্মের ভিতর দিয়ে পালিয়ে যায়। ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর দীর্ঘদিন সাইকো মারুফ ও আবেদ আলীর বাহিনীকে ডেইরী ফার্মে দেখা না গেলেও সম্প্রতি তারা আবারও বেপরুয়া হয়েছে উঠেছে। তারা প্রকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এখনই তাদেরকে থামানো না গেলে সাভার ডেইরীফার্ম, কলমা এমনিক ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যাত্রীরা তাদের অত্যাচার নির্যাতন এবং হামলার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাতে পারে।
মারধরের বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শী বায়ার শাখার কর্মচারী মালেক মকবুল ও মন্ত্রণালয়ের চাকুরী করা জলিলসহ অন্যান্যদের সাথে কথা বললেই সত্যতা পাওয়া যাবে।
আবেদ আলী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় আহত জয়নাল হাজারীরর ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাজিব বলেন, আবেদ আলী ও তার বাহিনী আমার বাবার সাথে যা করেছে এটা কোনভাবেই কাম্য না। এই সিন্ডিকেটটা ডেইরির ভিতরে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডের পাশাপাশি মাদকের আখড়া বানিয়েছে। যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক সেবীরা এসে বিভিন্ন অপকর্ম করে চলে যায়। এই আবেদ আলীসহ এই চক্রের সদস্যদের উপযুক্ত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলঅম বলেন, ইতিমধ্যে হামলা ও মারধরে ঘটনায় অভিযুক্ত আবেদ আলী চাচা শহর আলীকে শোকচ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের ভিতরে যাতে বহিরাগত লোকজন বসবাস করে কোন অপকর্ম করতে না পারে সেজন্য সবাইকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। কারও বাসায় অতিরিক্ত লোকজন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
লিখিত অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানা বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।