ঢাকা ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট হবে: আসিফ নজরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে রুমিন ফারহানা এগিয়ে দীর্ঘ লাইনে ভোটারের ভিড় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু নারী ভোটারদের নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ২, আহত ৩০ জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হতে পারে জামায়াতের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়েই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমান

চরফ্যাশনে ভূমি দস্যুর পতন, এলাকাবাসীর দোয়া প্রার্থনা

#

০১ ডিসেম্বর, ২০২৫,  2:04 PM

news image

মাকসুদুর রহমান : ভোলার চরফ্যাশনের ভূমিদস্যু রিয়াজের পতনে এলাকাবাসীর দোয়া প্রার্থনা। সে মানুষের জমি নিয়ে ভূয়া বন্দোবস্ত দেখিয়ে জোড় করে প্রভাব খাটিয়ে ভূমি দখল করত। সরজমিনে চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাজ গিয়ে দেখা যায়, রিয়াজ এখন মৃত। রিয়াজ ৩৭৯এফ/২০০২-০৩ বন্দোবন্ত নিয়ে, মৌজা-ভাষানচর, খতিয়ান নং-৩৯৩, হাল দাগ নং দিয়ারা-৫১৬ জমির পরিমান ১.৫০ একর জমি নিয়ে ৪এফ/৭১-৭২ মৌজা-সাবেক শশীভূশন, হালে-ভাষানচর, এস, এ দাগ নং ৫২৩৫ দিয়ারা দাগ নং-৫১৬, জমির পরিমান-১.৫০ একর জমি নিয়ে ওমর ফারুকের সহিত লড়াই করত। অথচ বিয়াজের বন্দোবস্ত ৩৭৯এফ/২০০২-০৩ ও ওমর ফারুকের বন্দোবস্ত ৪এফ/৭১-৭২। ওমর ফারুকের বন্দোবস্ত কেইচ রিয়াজ এর ৩০ বছর পূর্বের। রিয়াজের মৃত্যুর পর তার আত্মীয় বিশিষ্ট ভূমি দস্যু, কার্ডের দালাল, সাবেক আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী মেম্বার শাজাহান রিয়াজের পথ ধরে ৩৭৯এফ/০২-০৩ বন্দোবস্ত নিয়ে চরফ্যাশনের ভাষানচরে প্রভাব দেখিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করত। ৪ এফ/৭১-৭২ সালের বন্দোবস্তের মালিক ওমর ফারুকের বিষয়ে স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, 

রিয়াজের পথসারী, কার্ডের দালাল শাজাহান ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে দেঃ নং ১৮১/২০০৪ সালে একটি মামলা রুজু করেন। সেখানে রিয়াজের পথসারী সন্ত্রাসী কার্ডের দালাল শাজাহান মামলায় হেরে যায়। পরবর্তীতে রিয়াজের অনুসারী  শাজাহান মেম্বার মোকাম যুগ্ম জেলা জজ ২য় জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চরফ্যাশন, ভোলা দেঃ নং ২৯৭/২০১৫ ইং তারিখ মৃত বিয়াজের নামে মামলাটি আপীল করেন। অথচ রিয়াজ তখন মৃত। মামলাটি বিভিন্ন শুনানীর পর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চরফ্যাশন- ভোলা এর বিচারক জনাব মোঃ মহিউদ্দিন খান বিভিন্ন তথ্যের অভাবে রিয়াজের মামলাটি খারিজ করে দিলে  ওমর ফারুক মামলায় জিতে যায়।

৪এফ-৭১-৭২ বন্দোবস্তীয় কেসের মালিক ওমর ফারুক সাংবাদিকদের জানান,  এই ভূমি দস্যু-শাজাহান কে মামলায় ঠকাতে আমার অনেক টাকা খরচ হয় আমি ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ  প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনুস এর কাছে এর বিচার চাই। বর্তমানে একই বন্দোবস্ত, একই দাগ নিয়ে আবার ভূমিদস্যু কার্ডের দালাল শাজাহান, ৫এফ/৭১-৭২ কেইসের সাথে লড়াই করার চেষ্টা করছে। যাহা ০৫এফ/৭১-৭২ এর মালিক খোরশেদ আলম  এর সন্তান মাকসুদ বর্তমানে জমি ভোগ দখলে বিদ্যমান। যাহার এস.এ দাগ নং ৫২৩৬ দিয়ারা দাগ নং-৫১৬ ও ৫১৭, খতিয়ান নং-১৪৭১, জমির পরিমান ১.৫০ একর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৃতঃ ভূমিদস্যু রিয়াজের বন্দোবস্ত নিয়ে ভূমিদস্যু শাহাজান ভাষানচর মৌজায় ১.৫০ একর জমি দাবী করিতেছে। একই ব্যাক্তি মৃত রিয়াজ কবরে কিন্ত তার নামে কিভাবে ১.৫০ একর + ১.৫০ একর = ৩.০০ একর জমি দাবী করে? এই বিষয়ে ০৫এফ/৭১-৭২ বন্দোবস্ত কেইসের মালিকের ছেলে মাকসুদ জানান,  শাজাহান মেম্বার-জাতিসাপ এবং ভূমি দস্যু ১টি বন্দোবস্ত দিয়ে আরেক ব্যক্তির সাথে আদালতে হেরে গিয়ে আবার আমাকে জবর দখল করার চেষ্টা করছে। এই জন্য আমি বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট চরফ্যাশন আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করি। যার মামলা নং-২৯৬/২০২৫

এই বিষয়ে মোকাম যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত চরফ্যাশন, ভোলা আদালতে গিয়ে জানা যায়, রিয়াজ গং বাদী হয়ে ওমর ফারুক গং কে বিবাদী করে অত্র আদালতে মামলা রুজু করে। যাহার মামলা নং দেঃ নং ২৯৭/২০১৫, সূত্রঃ দেঃ নং- ১৮১/২০০৪ ইং। বাদী পক্ষের তদ্বীরের অভাবে অনুপস্থিত জনিত কারনে মামলাটি-খারিজ হয়। আদেশ দেন, জনাব, মোঃ মহিউদ্দিন খান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চরফ্যাশন, ভোলা।

উল্লেখ্য, ৩৭৯এফ/২০০২-০৩ সালের মামলায় রিয়াজ গং হেরে গিয়ে কেন একই বন্দোবস্ত নিয়ে ০৫এফ/৭১-৭২ বন্দোবস্ত কেইসের উপর-একই কাগজ উপস্থাপন করে কিভাবে?  চরফ্যাশনের ভাষানচরের স্থানীয়রা জানান, এই কার্ডের দালাল ভূমি দস্যু শাহাজান মামলায় হেরে যাওয়ায় আমরা দোয়া প্রার্থনা করছি। আমরা উপযুক্ত বিচার চাই প্রশাসনের কাছে ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এবং আইন সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে। এই বিষয়ে সাংবাদিকরা ভূমি দস্যু কার্ডের দালাল শাহাজান এর সাথে কথা বলতে চাইলে  তিনি কোন কথা না বলে এড়িয়ে যায়। এই বিষয়ে চরফ্যাশন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাংবাদিকদের বলেন, আমি সকল  কাগজপত্র দেখে মন্তব্য করবো। 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম