চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দার চাঞ্চল্যকর অভিযান
নিজস্ব প্রতিনিধি
০৭ অক্টোবর, ২০২৬, 11:14 AM
নিজস্ব প্রতিনিধি
০৭ অক্টোবর, ২০২৬, 11:14 AM
চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দার চাঞ্চল্যকর অভিযান
চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণার আড়ালে কাটা বা গাড়ির খণ্ডিত অংশ আমদানির ঘটনা উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) একটি সন্দেহভাজন পণ্যচালানের কায়িক পরীক্ষা করে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। চালানটিতে ব্যবহৃত গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ঘোষণা করা হলেও পরীক্ষায় খণ্ডিত অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার, একটি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অংশ এবং পাঁচটি খণ্ডিত ইসুজু ট্রাক পাওয়া গেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
কায়িক পরীক্ষায় প্রথমে খণ্ডিত অবস্থায় একটি দুই আসনের বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটির মডেল ‘এস ড্রাইভ ২৩আই’, ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি এবং এটি ২০০৯ সালের মডেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গাড়িটির সঠিক মডেল সাল, চেসিস নম্বর, ভিআইএন এবং আমদানির বৈধতা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
এনবিআর জানায়, বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অর্ধাংশ বা খণ্ডিত সামনের অংশ পাওয়া যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০১৬ সালের মডেল এবং ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি। বিশেষভাবে সন্দেহজনক বিষয় হলো, চালানটিতে গাড়িটির শুধু সামনের অংশ পাওয়া গেছে। এর বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে বা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, চালানটিতে পাঁচটি খণ্ডিত ইসুজু ট্রাকও পাওয়া যায়। প্রতিটি ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। এর পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।
ঘোষিত পণ্য এবং কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যের ধরন ও অবস্থার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। ঘোষণায় কারচুপি, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং খণ্ডিত গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে এনে পরে পুনরায় সংযোজনের কোনো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে কি না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই’র বাকি অর্ধাংশ কোথায়, সেটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য চালানের তথ্যও যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলোর বিস্তারিত তালিকা, চেসিস ও ভিআইএন, ইঞ্জিনের তথ্য, প্রকৃত মূল্য এবং প্রযোজ্য আমদানি নীতি ও শুল্ক-কর যাচাই করা হবে।
যাচাই শেষে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের ঘোষণার আড়ালে গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির চেষ্টা শনাক্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।