ঢাকা ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বাঞ্ছারামপুরের ইউএনও ফেরদৌস আরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: অধ্যাদেশের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবরোধ শতাধিক গুম-খুনের মামলায় জিয়াউলের বিচার শুরু এক দিন আগে নয়, পরেও নয়— ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির নবীন সৈনিকদের জাগ্রত থাকতে হবে’: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্স, বিধিমালা জারি সহপাঠী হত্যার বিচার চেয়ে আবারও রাস্তায় তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ফের কাল থেকে বাড়তে পারে শৈত্যপ্রবাহ চলন্ত ট্রেনের বগির ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ বিশ্বকাপ ট্রফি এখন বাংলাদেশে

গাজায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে তিন নারীসহ নিহত ৫

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি, ২০২৬,  11:24 AM

news image

গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের মধ্যে দুই নারী, এক কিশোরী ও এক পুরুষ রয়েছেন। এ ছাড়া ঠান্ডাজনিত কারণে আরো কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এক বছরের একটি শিশু হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। এর আগের রাতে একই কারণে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে গাজায় বসবাসের পরিস্থিতি চরম আকারে পৌঁছেছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, শীতকালীন ঝড় মোকাবিলার মতো পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাব রয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার শত শত তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয় ঝড়ে উড়ে গেছে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আল-শিফা হাসপাতালের তথ্যমতে, গাজা সিটির উপকূলীয় এলাকায় একটি আট মিটার উঁচু দেয়াল ধসে একটি তাঁবুর ওপর পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। তারা হলেন- ৭২ বছর বয়সি মোহাম্মদ হামুদা, তার ১৫ বছর বয়সি নাতনি ও পুত্রবধূ। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। গাজা সিটির পশ্চিম অংশে দেয়াল ধসে আরও এক নারী নিহত হয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, যুদ্ধের ফলে অধিকাংশ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় হারিয়েছে। ঝড়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় তাঁবু ও আশ্রয় সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে গাজায় ঢুকছে না। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দফতর জানিয়েছে, তারা তাঁবু, ত্রিপল, কম্বল, পোশাক ও জরুরি সামগ্রী বিতরণ করছে। তবে মানবিক সংস্থাগুলোর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চললেও আশ্রয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ গাজায় প্রবেশে বাধা রয়েছে।

এদিকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে সহায়তার জন্য শত শত ফোনকল এসেছে। পশ্চিম গাজা সিটিতে প্রবল বাতাসে অনেক তাঁবু সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। গাজার ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ শাওয়া বলেন, উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে। গাজার মেয়র ইয়াহিয়া আল-সাররাজ বলেন, অস্থায়ী আশ্রয় ও ওষুধের সংকটে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজায় শীতল আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গত তিন মাসে গাজায় শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে। এসব শিশু বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, ট্যাংক শেলিং ও গুলিতে নিহত হয়েছে বলে সংস্থাটির মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানান। চলতি শীতে এখন পর্যন্ত হাইপোথার্মিয়ায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম