ঢাকা ০৮ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সাভারের তিনটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হবেনা কেরানীগঞ্জের সাথে সিলেট ও বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ সাতক্ষীরায় ছয় কোটি টাকার নতুন ধরনের ‘কুশ’ মাদকসহ আটক ১ ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী ওয়ালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিয়ে প্রশ্ন হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু দুই সপ্তাহ পর আংশিক চালু এলএনজি টার্মিনাল মিরাজের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের লড়াই ডকুমেন্টরিতে আবু সাঈদ ও খালেদা জিয়ার ছবি না থাকা নিয়ে যা বললেন রাষ্ট্রপতি ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন

গাছ লাগানো সদকায়ে জারিয়া

#

২১ মে, ২০২৩,  10:31 AM

news image

আল্লাহর অপার নিয়ামত গাছপালা তরুলতা। একটি  দেশের ২৫% গাছপালায় ভরপুর থাকা উচিত। কিছু দিন আগে করোনা মহামারি পুরো পৃথিবীকে থমকে দিয়েছিল। মানুষ তখন প্রকৃতির কাছেই শান্তি পাচ্ছিল। গাছ প্রকৃতির অপূর্ব শোভা। গাছহীন পৃথিবী মলিন। গাছের অস্তিত্ব মানে মনপ্রাণের অস্তিত্ব, প্রাণীর অস্তিত্ব। যে অঞ্চলে যত গাছপালা, সে অঞ্চল তত বেশি প্রাণবন্ত। গাছ ছাড়া বেঁচে থাকার উপায় নেই। গাছ থেকে পাওয়া অক্সিজেন আমাদের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। ঝুঁকিহীন এক সুন্দরতম নিরাপদ বিনিয়োগ গাছ। সবুজ শ্যামল নিসর্গ মূলত গাছকে ঘিরেই। গাছ আমাদের জীবনের ছায়া। এ পৃথিবীতে প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে গাছ অবিকল্প ভূমিকা পালন করছে। এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিনে দিনে বেড়ে চলেছে, বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ, পাশাপাশি চলছে নগরায়ণ, বাড়ছে বিষাক্ত ধোঁয়া, বাতাসে সিসার পরিমাণ। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত বিরূপতায় আমরা মুখোমুখি হচ্ছি খরা, বন্যা, ঝড়, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্পসহ নানা ধরনের ভয়াবহ প্রতিকূলতার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধে গাছ পালন করে উপকারী বন্ধুর ভূমিকা। গাছ সৃষ্টির এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, ‘আমি বিস্তৃত করেছি ভূমিকে, স্থাপন করেছি পর্বতমালা এবং তা থেকে উদগত করেছি নয়ন জুড়ানো সব ধরনের উদ্ভিদ। এটি আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ। আকাশ থেকে আমি বর্ষণ করি উপকারী বৃষ্টি এবং তা দ্বারা সৃষ্টি করি উদ্যান, শস্যরাজি ও সমুন্নত খেজুর বৃক্ষ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুর।’ (সুরা কাফ ৭-১০) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই লতা ও বৃক্ষ উদ্যানগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং খেজুর বৃক্ষ, বিভিন্ন স্বাদবিশিষ্ট খাদ্যশস্য, জলপাই বাগান সৃষ্টি করেছেন। তারা একে অন্যের মতো এবং আলাদা। যখন গাছ ফলবান হয় তখন তোমরা গাছের ফল আহার করবে। আর ফসল তোলার দিনে তার দেয় প্রদান করবে এবং অপচয় করবে না।’ (সুরা আনআম ১৪১) ‘তারা কি জমিনের প্রতি লক্ষ করে না? আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের কত উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদগত করেছি। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।’ (সুরা শুয়ারা ৭-৮) গাছ লাগানোকে হাদিসে উত্তম ইবাদত বলা হয়েছে।

ইসলামী পরিভাষায় যাকে সদকায়ে জারিয়া বলা হয়েছে। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলমান একটি ফলবান বৃক্ষের চারা রোপণ করে, আর এতে ফল আসার পর সে নিজে অথবা অন্য কোনো মানুষ তা থেকে যা খায় তা তার জন্য সদকা, যা চুরি হয়, যা কিছু গৃহপালিত পশু এবং অন্যান্য পাখপাখালি খাবে, এ সবই তার জন্য সদকা।’ (বুখারি, মুসলিম) গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘তুমি যদি নিশ্চিতভাবে জানতে পারো কিয়ামত এসে গেছে, আর তোমার হাতে একটি গাছের চারা আছে তার পরও তা লাগিয়ে দাও।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ) পৃথিবীর তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং বন্যায় বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে মানুষ। এমনকি পৃথিবীর কোনো কোনো দেশ-মহাদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠে তলিয়ে পর্যন্ত যেতে পারে। আমাদের দেশেরও সেই ঝুঁকি রয়েছে। গাছ অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি রোধ করে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা কমায় এবং শীতকালে বাড়ায়। গাছ ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রতিরোধক হিসেবে মানুষের উপকার করে থাকে। 

লেখক : খতিব, মণিপুর বায়তুল আশরাফ (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদ, মিরপুর-২, ঢাকা

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম