ঢাকা ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ভারত থেকে এলো আরও ৭ হাজার টন ডিজেল বাস ভাড়া বাড়াল সরকার মনিরা শারমিনেরও মনোনয়ন বাতিল তীব্র তাপে পুড়ছে রাজশাহী, ঢাকাসহ ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ এ বছরেই চালু হবে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল: বিমান প্রতিমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়: ইরান সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপির ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা আরও দুই জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন, আজ থেকে নতুন দাম জয়পুরহাটে গোসল করতে নেমে পুকুরে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করল ফুটবলার

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

০৭ মে, ২০২৩,  2:01 PM

news image

ভিডিও কলে প্রেমিকাকে রেখে বরিশালের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে মো. সোহেল জমাদ্দার (২৩) নামে এক ফুটবলার আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে স্বজনরা। শনিবার (৬ মে) রাতে ইমোতে পরকীয়া প্রেমিকাকে প্রথমে আত্মহত্যার সরঞ্জমাদির ছবি পাঠান তিনি। পরে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেন। আত্মহননকারী সোহেল ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার রায়াপুর বটতলা এলাকার হাফিজ জমাদ্দারের ছেলে। তিনি ঢাকার সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের অনূর্ধ্ব ১৭ দলের গোলরক্ষক ছিলেন। এই ফুটবলার বিবাহিত ও আট মাস বয়সী এক ছেলের বাবা। রোববার (৭ মে) সকালে সাড়ে ১০টার দিকে ওই ফুটবলারের মরদেহ উদ্ধার করেছে বরিশাল থানা পুলিশ।

ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মরদেহ উদ্ধারে যাওয়া কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এই ফুটবলার। ফাঁস নেওয়ার পর দড়ি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যাওয়ায় তার মাথা ফেটে গেছে। ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে। আত্মহত্যার আগে পাঠানো ছবিও পাওয়া গেছে। তার মোবাইল ফোন আলমত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। ওই ফুটবলারের বোন শান্তা জানান, বিয়ের আগে বরিশাল নগরের বেসরকারি নার্সিং কলেজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সোহেলের। তাদের সম্পর্ক না টেকায় সোহেলকে অন্যত্র বিয়ে করানো হয়।

সম্প্রতি পরিবারের সবার অজান্তে সেই মেয়ের সঙ্গে আবারও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সোহেল। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি দেখা দিলেও ওই মেয়ে আর সোহেলকে কোনোভাবেই ফেরানো যায়নি। শান্তা বলেন, শনিবার স্ত্রীর সঙ্গে সোহেল ঝগড়া হয়। ভাবি ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। এদিকে রোববার খেলা থাকায় শনিবারই স্টেডিয়ামে আসেন সোহেল। সন্ধ্যার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। অন্যান্য খেলোয়াড়রা সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। আমিও যোগাযোগের চেষ্টা করে পাইনি। পরে ওই মেয়ে (সোহেলের প্রেমিকা) জানান, সোহেল ইমোতে তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে জানিয়ে দড়ি ও একটি মইয়ের ছবি পাঠায় তাকে। রাতে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। সকালে এসে তার মরদেহের সন্ধান পাই। সোহেলের সহ-খেলোয়ার মো. রায়হান বলেন, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের অনূর্ধ্ব ১৭ দলে গোলরক্ষক হিসেবে দুই বছর খেলেছে সোহেল। সম্প্রতি বরিশালের বিভিন্ন দলে খেলত সে। আউটার স্টেডিয়ামের জন্য নির্মিতব্য ড্রেসিংরুমের বাথরুমে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সোহেল। এসআই শহীদুল ইসলাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আপাতত অপমৃত্যুর মামলা হবে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম