নিজস্ব প্রতিনিধি
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, 4:22 PM
কোমল হাতে জীবন সংগ্রামে লোহার সাবল
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। আর এটির প্রমাণ প্রতিনিয়তই আমাদের চোখে পড়ে। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে মানুষ খুঁজেন বিভিন্ন ধরনের পেশা। কেউ বা খুঁজে নেন একবেলা খেয়ে কোনোমতে জীবনটা টিকিয়ে রাখার। এমনি কিছু লোকের সন্ধান পাওয়া যায় শেরপুর জেলার নকলা পৌর এলাকায়। সকাল থেকেই পৌর শহরের চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে শেরপুর- ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষে ঠিকাদারের ফেলে আসা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ইটের খোয়া আর পাথরের টুকরো কুঁড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে শিশু থেকে শুরু করে তরুণ তরুণী ও বৃদ্ধা পর্যন্ত। ইট,পাথরের মাঝেই লুকিয়ে আছে ওদের স্বপ্ন। যেনো এক টুকরো ইটের খোয়ার সন্ধান পাওয়াতে তাদের কাছে মহামূল্যবান সম্পদ মনে হয়, ফুটে উঠে মুখে হাসির ঝিলিক। আর এই খোয়া ও পাথরের টুকরা খুঁজতে তাদের ব্যবহার করতে হয় সাবল বা কুদাল। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত এভাবে পাথর বা ইটের খোয়া কুঁড়িয়ে বিক্রি করে তাদের সংসারের চাকা ঘুরে। ইটের খোয়া আর পাথরের টুকরো কুঁড়িয়ে একেকটা পরিবারের দৈনিক আয় গড়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই সময়ে সামান্য আয় দিয়ে এমন পরিবারের সংসার চালানো কষ্টকর, তবুও এ টাকা দিয়েই চলে ছেলেমেয়ের পড়াশোনাসহ আনুষাঙ্গিক খরচ। দিনভর ইট,পাথর সংগ্রহের পরও তাদের চোখে-মুখে নেই কোন ক্লান্তির ছাপ। ইট, পাথর সংগ্রহ করতে আসা পারুলী বেগম জানান, সারাদিন খাইট্টা কোনোদিন ৩০০ আবার কোনোদিন ৫০০ টেহা বেচি। সাবল দিয়া খুঁড়তে গিয়া হাতে ঠুয়া পইরা গেছে। জীবন এহন ইট পাথরের মত শক্ত হইয়া গেছে।