নিজস্ব প্রতিনিধি
১৪ আগস্ট, ২০২২, 3:35 PM
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট এখন পর্যটকদের ডুব সাঁতারের জন্য বিপজ্জনক
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট এখন পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাড়িয়েছে। সমুদ্রে জোয়ারের সময় বিপদসঙ্কুল সৈকতে প্রায়শ:ই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সৈকতের ভাঙ্গনরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি প্রটেকশনে ব্যবহৃত জিও টিউব ও জিও ব্যাগ থেকে বালু সরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সৈকত। পর্যটন ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, কুয়াকাটা সৈকতের সৃষ্ট কুয়ায় পড়ে নাহিয়ান মাহাদি নাফি নামের এক পর্যটক ২২ জুলাই ডুবে মারা গেছে। এরপর ২৮ জুলাই সকালে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে বালু তোলার কুয়ায় পড়ে ডুবে যায় আরেক পর্যটক। সবশেষ ৩ আগস্ট গোসলে নেমে রক্তাক্ত জখম হয় আরেক পর্যটক। স্থানীয়রা ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করলে প্রাণে বেঁচে যায় সে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকা এখন জোয়ারের সময় পর্যটকদের ডুব সাঁতার কাটার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দেয়ায় জোয়ারে প্রবলভাবে ঘুর্ণিস্রোত সৃষ্টি হয়। জিও ব্যাগ, পোতা বাঁশ ও কনক্রিট পানির নিচে থাকে। যা পর্যটক দেখতে পায় না। যাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মুহূর্তে তাদের আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। কুয়াকাটা ভ্রমনে আসা বহু পর্যটক এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কুয়াকাটা থেকে ফিরেছেন। কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন বিপ্লব জানান, অপরিকল্পিতভাবে বীচ রক্ষার নামে জিও টিউব ও জিও ব্যাগ দেয়া হচ্ছে। সৈকত থেকে যে যার মতো করে বালু কাটছে। বাঁশ পোতা হচ্ছে আবার উঠানো হয়েছে। ফলে জিরো পয়েন্ট এখন জোয়ারের সময় পর্যটকদের গোসল করার জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে যাদের ভূমিকা নেয়ার কথা তাঁরা নীরব রয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফ হোসেন জানান, সৈকত রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছেকলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, সৈকতের রক্ষণাবেক্ষণ করতে তাঁরা সচেষ্ট রয়েছেন।