ঢাকা ১০ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
যোগ্য ও ত্যাগীরাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুযোগ পাবেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি ফেল করা শিক্ষার্থীদেরদের খাতা পুনঃপরীক্ষণের বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী সর্বোচ্চ পাস ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, সর্বনিম্ন মাদ্রাসায় এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এ বড় ধস, কমলো ২২ হাজার ৩৫৬ ৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউই পাস করেনি মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের আপিল সৌদিতে আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শোক টাইগারদের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে নতুন রোমাঞ্চের ইঙ্গিত গিলক্রিস্টের

কমছে ঋণমান, চাপের শঙ্কা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ আগস্ট, ২০২৬,  10:56 AM

news image

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ফিচ রেটিংসও দেশের ঋণমানের পূর্বাভাস নেতিবাচক করেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ঋণ গ্রহণের ব্যয়, বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ঋণপ্রবাহ সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।


বাংলাদেশ সরকার তার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং বিভিন্ন সরকারি ব্যয় নির্বাহে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তারাও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৫১ কোটি ডলার। তিন মাস আগে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ২২১ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১৩০ কোটি ডলার। এ অবস্থায় ঋণমানের পূর্বাভাস নেতিবাচক হওয়াকে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ একটি দেশের ঋণমান মূলত ওই দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক ঝুঁকি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের ধারণা দেয়। ঋণমান যত দুর্বল হয়, সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নিতে সুদহার ও অন্যান্য শর্ত তত কঠিন হয়।


এসঅ্যান্ডপির মূল্যায়নে বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি ৯ নম্বর শ্রেণিতে রয়েছে। তাদের ঝুঁকি সূচকে ১ সর্বনিম্ন এবং ১০ সর্বোচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে। সংস্থাটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান ঝুঁকি হিসেবে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং পোশাক খাতের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে।


সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব সংকটের প্রভাবে আগামী তিন বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৪ শতাংশের ঘরে      আটকে থাকতে পারে। পাশাপাশি আগামী ১২ থেকে ১৮ মাস রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির গতি কমে গেলে এর প্রভাব শুধু জিডিপিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। সরকারের রাজস্ব আয় কমে যেতে পারে, বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে এবং বিনিয়োগের গতি কমতে পারে। অথচ কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু অর্থায়নের উৎস সংকুচিত হলে এবং বিদেশি ঋণের ব্যয় বেড়ে গেলে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও পিছিয়ে যেতে পারে।


বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ঋণমানের অবনতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা দেয়। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচক ও রেটিংকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রত্যাশিত আইএমএফ ঋণপ্রবাহেও এর কোনো না কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’


তবে ঋণমানের নেতিবাচক পূর্বাভাসের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হচ্ছে, এটি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃশ্যমান করে তুলছে। একদিকে বৈদেশিক ঋণ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।


এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ফিচ রেটিংস বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছিল। এখন এসঅ্যান্ডপির একই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, ঋণমান আরও কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বেশি সুদ ও কঠিন শর্ত মেনে নিতে হতে পারে। এতে সরকারি ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বৈদেশিক অর্থায়নের ব্যয়ও বাড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে। তাই বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এখন অর্থনীতির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বাংলাদেশের ঋণমান আরও চাপে পড়তে পারে- যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত অর্থায়নের ব্যয় থেকে শুরু করে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত  হতে পারে। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম