ঋণ করে হামের চিকিৎসা করেছে ৮৯ ভাগ অতিদরিদ্র পরিবার: জরিপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ আগস্ট, ২০২৬, 1:17 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ আগস্ট, ২০২৬, 1:17 PM
ঋণ করে হামের চিকিৎসা করেছে ৮৯ ভাগ অতিদরিদ্র পরিবার: জরিপ
বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে সাধারণ পরিবারগুলো। সম্প্রতি এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে অন্তত ৯টিই (৮৯ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। এ ছাড়া ৬১ শতাংশ পরিবার তাদের জীবনের সব সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি) যৌথভাবে এই জরিপটি পরিচালনা করে। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর চালানো এই মূল্যায়নে দেখা যায়, রোগের ধকল সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত পরিবারগুলো চিকিৎসাব্যয়ের পাশাপাশি মারাত্মক সামাজিক ও মানবিক সংকটে পড়ছে।
জরিপ অনুযায়ী, চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতিটি পরিবারকে গড়ে প্রায় ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। শিশুরা দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় অভিভাবকদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, এমনকি অনেকে চাকরিও হারিয়েছে। চিকিৎসায় সহায়তার জন্য পরিবারগুলোর ৩৫ শতাংশ ওষুধ, ৩৩ শতাংশ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি এবং ২২ শতাংশ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির এম. আশরাফ আলম জানান, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে চিহ্নিত করে ১০ হাজার টাকা করে জরুরি নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আইএফআরসির বাংলাদেশ প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, স্বাস্থ্য সংকটের সময় শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ২ জন এবং ঢাকার ১ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৭৫১ জন এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ শিশুর মৃত্যু হলো। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৪৭।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০৮ জন। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০ জনে, যার মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৬ হাজার ৪০৮ জন। বর্তমানে ১ হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক সরকারের টিকাদান কার্যক্রম ও সচেতনতা সৃষ্টিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।