ঢাকা ১১ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগও থাকছে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদিত হলো প্রস্তাবিত বাজেট দেশে স্বর্ণের দাম কমলো ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কোচ কাঞ্চনের ফ্রি ‘কুরআনিক বিজনেস মডেল’ লাইভ মাস্টারক্লাস অনুষ্ঠিত হবে ১১ ও ১২ জুন বিশ্বকে সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব কড়া প্রতিবাদেও সীমান্তে থামছে না পুশইন চেষ্টা এক নজরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঋণনির্ভর বাজেটে চাপ বাড়বে উদ্যোক্তাদের শিরোপা লড়াইয়ে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখলেন উইটসেল জাতির আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

ঋণনির্ভর বাজেটে চাপ বাড়বে উদ্যোক্তাদের

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ জুন, ২০২৬,  11:13 AM

news image

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে মোট বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মেটাতে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

ঘাটতি অর্থায়নের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকার ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। একই সঙ্গে আসন্ন অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে আরো ৪৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বাড়বে।

এ বিষয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, ‘এত বড় বাজেট করা সরকারের জন্য কঠিন হবে।’ 

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা বেসরকারি খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি কমে যাবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বদলে সংকোচন ঘটাতে পারে।’

ওয়ারেসুল করিম বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব আদায়ের দুর্বল অবস্থার কারণে সরকার যদি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না করে ঋণের বোঝা বাড়ায়, তাহলে তা উল্টো অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।’

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত সরকার এরই মধ্যে নিট এক লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরুতে সরকারের ব্যাংকঋণের স্থিতি ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা, যা ১০ মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৬০ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকায়। এই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক উভয় উৎস থেকে ঋণ নেওয়া বেড়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারের প্রধান আয়ের উৎস রাজস্ব খাত হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে শুল্ক ও কর আদায়ে ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকার বেশি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্থরতা ও আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। ফলে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে।

তবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সরকার এভাবে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে থাকলে তাঁদের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ঋণের সুদের হারেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে এখন ৪.৭ শতাংশে নেমেছে, যা চরম বিনিয়োগ মন্দার প্রমাণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এই সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১০.৬০ শতাংশ। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ১১৩ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণও দ্রুত বাড়ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম