ইরানের ৮০ লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ জুলাই, ২০২৬, 1:08 PM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ জুলাই, ২০২৬, 1:08 PM
ইরানের ৮০ লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের অন্তত ৮০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এ হামলাকে ‘উন্মুক্ত আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এদিকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযানেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকমের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাবিকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন হলে ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত।
হামলার আগে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়। এগুলো হলো মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী কাতারি ট্যাংকার এমটি আল-রেকাইয়াত, সৌদি আরবের পতাকাবাহী এমটি ওয়াদিয়ান এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমটি সাইপ্রাস প্রসপারিটি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইরাকে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য চলাকালে এ ‘উন্মুক্ত আগ্রাস চালানো হয়েছে।’ এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য কেবল ইরানের নির্ধারিত নৌপথই নিরাপদ বলে দাবি করেছে তারা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি অভিযোগ করেছে, সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ হামলা দক্ষিণাঞ্চলের বেসামরিক এলাকায় হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি বলেন, এই হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর জবাবে তেহরান চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ নেবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সামরিক অভিযানের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা-ছাড় প্রত্যাহার করে। গত মাসের সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানকে সীমিত পরিসরে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
এ সিদ্ধান্তকে সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অসৎ উদ্দেশ্য, অসঙ্গতি ও অবিশ্বস্ততা আরও স্পষ্ট হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে তেহরান।