আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ মার্চ, ২০২৬, 10:40 AM
ইরানের হুঁশিয়ারি, হরমুজ দিয়ে এক লিটার তেলও যাবে না
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এবার নতুন এক ‘অস্ত্র’ হিসেবে সামনে এসেছে তেল। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই জলপথকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো জাহাজ এখন থেকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমিয়ে রাখা যাবে না। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরই তেলের বাজার নির্ভর করে, আর এই অঞ্চলের অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাই দায়ী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের কোনো সমাধান না হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে তেলের দামও অস্থিরভাবে ওঠানামা করছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। বুধবার (১১ মার্চ) ওমান উপকূলের কাছে একটি থাই পতাকাবাহী কার্গো জাহাজসহ মোট তিনটি জাহাজে হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাহাজগুলোকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচল অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাহাজগুলোর যাওয়া উচিত। খুব দ্রুতই সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেছেন, এই অচলাবস্থার কারণে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোতে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে উন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছে। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান বুয়েগার বলেন, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়া না হলে ইউরোপ ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের ৩২টি সদস্য দেশের জরুরি মজুত থেকে একযোগে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। তবে হরমুজ প্রণালী চালু না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এদিকে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও জাপানও তাদের জাতীয় মজুত থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, তাদের দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। আগামী সোমবার থেকেই তারা এই মজুত বাজারে ছাড়তে শুরু করবে।
সূত্র : আল-জাজিরা