আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 11:00 AM
ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসার আবেদন আদালতে খারিজ
পাকিস্তানের আদিয়ালা জেলে আটক পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে রাওয়ালপিন্ডির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি)। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান। ইমরান খানের আইনজীবী ফয়সাল মালিক আদালতে বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের সেই সব চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যা অতীতে নওয়াজ শরিফের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের দেওয়া হয়েছিল। তিনি যুক্তি দেন, ইমরান খান বর্তমানে একজন বিচারাধীন বন্দি এবং নিজের পছন্দের চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর আইনগত অধিকার তার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আদিয়ালা কারাগারে চোখের বিশেষায়িত চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আইনজীবী আরো প্রশ্ন তোলেন, গত তিন বছর তাকে কারাগারের বাইরে নেওয়া না হলেও কেন হঠাৎ গভীর রাতে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিমস) নেওয়া হলো এবং কেন জেল কোড অনুযায়ী আগে পরিবারকে অবহিত করা হয়নি। অন্যদিকে বিশেষ প্রসিকিউটর জহির শাহ এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, ৯ মের জিএইচকিউ হামলা মামলায় ইমরান খান জামিনে থাকলেও অন্যান্য মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।ফলে তাকে কেবল বিচারাধীন বন্দি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রসিকিউটর আরো বলেন, জেল প্রশাসন বা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার এই বিশেষ আদালতের নেই। জেল কোড অনুযায়ী বন্দিদের চিকিৎসা সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমেই নিশ্চিত করতে হবে এবং সেখানে বেসরকারি চিকিৎসকের কোনো বিধান নেই। এদিকে পিমস হাসপাতালের একটি মেডিকেল রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ইমরান খান ডান চোখের একটি রক্তনালীজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে, ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি জেল বিধি অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তবে ইমরান খানের বোন আলিমা খানম অভিযোগ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রতিশ্রুত মেডিকেল রিপোর্টগুলো এখনো পরিবারকে সরবরাহ করা হয়নি। সূত্র: দ্য ডন