আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 10:57 AM
ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি ইরান
ইরানে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জেন জি বিক্ষোভ। মাত্র এক মাসের কিছুটা বেশি সময়ের ব্যবধানে আবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানী তেহরানে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারপন্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এরই মধ্যে ইরান নিজেদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি হয়েছে। তবে তা হতে হবে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর অধীনে। আর নিজেদের কাছে থাকা অতি সমৃদ্ধ ৩০০ কেজি ইউরেনিয়াম রপ্তানি করবে না তেহরান। ইরানের একাধিক সূত্র ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে নতুন করে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখা দেওয়ার পরপরই এমন সিদ্ধান্তের কথা জানালো ইরান। সূত্র বলেছে, পরমাণু ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, সেখানে কয়েক দিনের মধ্যে মজুত কমানোর এ প্রস্তাব দেবে ইরান। তেহরানের কাছে বর্তমানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ৬০ শতাংশ। এই মাত্রা পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাত্রার কাছাকাছি। তবে তারা ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ২০ শতাংশ বা তার নিচে নিয়ে আনতে চায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তাদের দেশের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা বন্ধের দাবি করেনি যুক্তরাষ্ট্র, বরং নজর দেওয়া হচ্ছে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা কমানোর বিষয়ে। দুই বা তিন বছরের জন্য ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে বলে যেসব খবর সামনে আসছে, তা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন আরাঘচি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দ্বিতীয় দফায় বৈঠক হয় ওয়াশিংটন ও তেহরানের। দুই পক্ষই আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানালেও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান ১০-১৫ দিনের মধ্যে চুক্তি না করলে দেশটিতে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এদিকে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছেন দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত মাসের প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর এটাই এ ধরনের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। এদিকে, এ ঘটনায় কোনো বিক্ষোভকারী আটক হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান