নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ এপ্রিল, ২০২৬, 1:00 PM
আম উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে বাংলাদেশ
বাসস
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে দেশে আমের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। আম উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এবার সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিএই’র তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৮টি দেশে ২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করে রেকর্ড গড়েছিল। এবারও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের আশা, অন্তত ৩ হাজার মেট্রিক টন আম রপ্তানি সম্ভব হতে পারে। নতুন করে মালয়েশিয়া ও জাপানের বাজারেও আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ডিএই’র ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, এ বছর ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত উৎপাদনে বড় কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।
তিনি আরও জানান, আগামী মে মাস থেকে আম সংগ্রহ শুরু হয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। প্রধান উৎপাদনকারী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুর।
মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, কালবৈশাখি ঝড়ে ক্ষতি না হলে ২৭ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানিতেও নতুন রেকর্ড হতে পারে। গত বছর চীনের বাজারে ৩ মেট্রিক টন আম পাঠিয়ে প্রথমবারের মতো রপ্তানি শুরু হয়।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাঠালপাড়া গ্রামের আমচাষি ফারুখ প্রধান জানান, এবারের আবহাওয়া আমের জন্য অনুকূলে রয়েছে। শীত শেষে সময়মতো তাপমাত্রা বৃদ্ধি, স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় অধিকাংশ বাগানে এ বছর মুকুলের পরিমাণ ব্যাপক বেড়েছে। গুটি ঝরাও তুলনামূলক কম হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এত মুকুল অনেকদিন দেখিনি। বড় ধরনের ঝড় না হলে ফলন খুব ভালো হবে।’
এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাগান মালিক শাফিউল আলম ইমরান বলেন, ‘গাছের অবস্থা দেখে এ বছর আমের বাম্পার উৎপাদনের আশা করছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ, উন্নত জাতের চারা, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।’
পাশাপাশি সাতক্ষীরার চাষিরাও ভালো ফলনের আশা করেছেন।
ডিএই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ২১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়, যার মধ্যে রপ্তানি হয় মাত্র ৩০৯ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে উৎপাদন প্রায় ২৫ লাখ টন হলেও রপ্তানি হয় ২৮৩ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৯ টন, রপ্তানি ১ হাজার ৭৫৭ টন।
২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ২৭ লাখ ৭ হাজার ৪৫৯ টন, রপ্তানি ৩ হাজার ১০০ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ২৫ লাখ ৮ হাজার ৯৭৩ টন, রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩২১ টন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ করে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টন আম উৎপাদন হয়, রপ্তানি হয় ২ হাজার ১৯৪ টন।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন ২৭ লাখ টন ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ বাংলাদেশের আমের প্রধান রপ্তানি বাজার। ক্ষীরসাপাতি, গোপালভোগ, ফজলি, হাঁড়িভাঙা ও আম্রপালি জাতের আম যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব, জার্মানি ও সুইডেনসহ অন্তত ৩৮টি দেশে রপ্তানি করা হয়। গত বছর প্রথমবারের মতো চীনে আম রপ্তানি শুরু হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাঠে থেকে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তাদের আম চাষে সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করার ফলে আমের উৎপাদন প্রতি বছর বেড়ে চলেছে। তবে আম রপ্তানিতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা নিরসনে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’